হাওজা নিউজ এজেন্সি: মঙ্গলবার লেবাননের কমান্ডার আলী সালহাব (হাজ্ব মালেক)-এর স্মরণসভায় আল-মানার টেলিভিশনের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে শেখ নাঈম কাসেম বলেন, হাজ্ব মালেক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিষ্ঠা, দক্ষতা ও অটল সংকল্পের সঙ্গে কাজ করেছেন। বেকা অঞ্চলে সামরিক কমান্ডার হিসেবে তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি নির্ণায়ক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেন।
তিনি ইসলামী ইরানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ইসলামী বিপ্লব নিপীড়িত মানুষের জন্য আশ্রয় হয়ে উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে পুনর্জীবিত করেছে এবং ফিলিস্তিন মুক্তির পতাকা উড্ডীন করেছে।
হিজবুল্লাহর মহাসচিব বলেন, ইমাম খামেনেয়ীর নেতৃত্বে ঈমান ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ভিত্তিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর কাতারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে।
তিনি পাকিস্তানের ইসলামাবাদের খাদিজাতুল কুবরা (সা.আ.) মসজিদে দায়েশ (আইএসআইএল)-এর সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের জন্য পাকিস্তানের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
লেবানন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লেবানন ও ফিলিস্তিন রক্ষায় প্রতিরোধ সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে, কারণ শত্রু এক ও অভিন্ন। ভবিষ্যৎ নির্মাণে লেবানন রাষ্ট্রকে অভিজ্ঞতা, ঈমান ও দৃঢ়তার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা প্রতিরোধ শক্তিকে অপরিহার্য সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, লেবাননে প্রতিরোধকে কেউ ঠেকাতে পারবে না, কারণ এটি সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। তিনি শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহকে স্মরণ করে বলেন, দেশের শক্তি ও মর্যাদা রক্ষায় তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে শেখ নাঈম কাসেম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যকে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলি আধিপত্যের স্বার্থে পুনর্গঠন করার চেষ্টা চলছে; তবে লেবানন এ আধিপত্যের প্রবেশদ্বার হবে না।
তার ভাষায়, সব সামরিক সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল গাজা, লেবানন, ইরান ও ইয়েমেনে নিজের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া ইসরায়েল আরও দুর্বল ও অসহায় হয়ে পড়েছে এবং কার্যত ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেও অভ্যন্তরীণ সংকটে দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং বিশ্বব্যাপী জনগণ ও জাতির বিরোধিতার মুখে পড়ছে।
হিজবুল্লাহ মহাসচিব বলেন, প্রতিরোধ একটি জাতীয় সম্পদ, যা সংরক্ষণ করা অপরিহার্য। শত্রুকে কখনোই নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা কিংবা স্বস্তির সুযোগ দেওয়া হবে না।
শেষে তিনি জানান, ২০২৪ সালের যুদ্ধে যাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, তাদের জন্য তিন মাসের আবাসনের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—যদিও এ দায়িত্ব মূলত রাষ্ট্রের।
আপনার কমেন্ট